Motivation Aouwal Post 2019

সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে অনেকে। ধরে রাখতে পারে ক’জন? এর উত্তর-দৃঢ় মনোবল আর প্রচেষ্টা আছে যার সেই সে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। হোক সে সুস্থ কিংবা প্রতিবন্ধী। মেহেরপুর পল্লীর এমন এক প্রতিবন্ধী যুবক তার স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে সিঁড়ি বেয়ে উপরের দিকে উঠে চলেছেন। লক্ষ্য পূরণ করেই তিনি খ্যান্ত হবেন। এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আওয়াল হোসেন। মেহেরপুর জেলা সদরের রাঁধাকান্তপুর গ্রামের আলী হোসেনের ৪ ছেলে-মেয়ের মধ্যে আওয়াল হোসেন প্রতিবন্ধী। জন্মগত প্রতিবন্ধী নন আওয়াল হোসেন। একমাত্র সন্তান অনেক বড় হবে এমন প্রত্যাশা ছিলো পিতা আলী হোসেনের। কিন্তু বিধি বাম। মাত্র ৩ বছর বয়সে আওয়াল হোসেনের পোলিও হয়। চিকিৎসা করেও লাভ হয়নি। পা দু’টো নষ্ট হয়ে যায় তার। শিশু আওয়াল হোসেনের হাঁটা-চলা বন্ধ হয়ে যায়। অন্যের উপর ভর করে চলতে হয় তাকে। তাই বলে পিতার স্বপ্ন ভেঙে যায়নি। তিনি ছেলেকে ভিক্ষুক বানাতে রাজি নন। পিতা আলী হোসেন স্বপ্নের বীজ বপন করতে থাকলেন প্রতিবন্ধী শিশু আওয়াল হোসেনের মধ্যে। আওয়াল এখন ২৫ বছরের যুবক। মেহেরপুর সরকারি কলেজ থেকে দর্শনে আনার্সসহ স্নাতক পাশ করেছেন। এ বছর তিনি চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে মাস্টার্স ভর্তি হয়েছেন। নিজের ভবিষ্যতের জন্য পিতার স্বপ্ন পূরণের সিঁড়ি বেয়ে এগিয়ে চলেছেন সামনের দিকে। আওয়াল হোসেন জানান, সাহস আর সহযোগিতা পেলে ভিক্ষুক নয়; প্রতিবন্ধীরাও সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের মত মানুষ হতে পারেন। তারাও দেখতে পারেন সুন্দর স্বপ্ন আর গড়তে পারেন সুন্দর ভবিষ্যত।





আওয়াল জানালেন, মাত্র ৩ বছর বয়সে পোলিও তাকে প্রতিবন্ধী করেছে। পায়ে ভর দিয়ে চলা বন্ধ হয়েছে তার। কিন্তু মনের বল কমাতে পারেনি তার। ছোট থেকে লেখা-পড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিলো তার। তাই পিতা-মাতার ইচ্ছায় আওয়ালকে দাদা তেলাবত শেখ কোলে করে গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রেখে আসতেন। ছুটির পরে মা আন্তানুর খাতুন তাকে বাড়ি নিয়ে আসতেন। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর রাঁধাকান্তপুর-রাজাপুর (আরআর) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয় তাকে। দাদা তেলাবত শেখ আর বেঁচে নেই। ওই সময় থেকে তাকে ক্র্যাচে ভর করে বিদ্যালয়ে যেতে হতো। ওই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং মেহেরপুর পৌর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন আওয়াল হোসেন। পৌর ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হওয়ার পর তার ক্র্যাচে চলার সাথী হিসেবে যুক্ত হয় ৩ চাকার হুইলার। এরপর তিনি মেহেরপুর সরকারি কলেজে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি হন। দর্শনে আনার্স পড়েন তিনি। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে মাষ্টার্সও ভর্তি হয়েছেন তিনি। সরকারি অফিসের কর্মকর্তা কিংবা সরকারি কলেজের প্রভাষক হওয়ার স্বপ্ন তার। আওয়াল হোসেন বলেন, স্বাবলম্বি হওয়ার চেষ্টা করছি। প্রতিবন্ধী বলে পিতা-মাতার ঘাড়ে চেপে বসতে হবে এমন ছেলে নই আমি। অবসর সময়ে নিজের বাসায় বসে কিছু ছেলেকে প্রাইভেট পড়াতাম। এ থেকে মাসে বেশ কিছু টাকা আসত। এতেই আমার লেখা-পড়ার খরচ চলে যেত। শুধু তাই নয়। স্বপ্ন পূরণ করতে শুধু ক্লাসের পড়া নয়। অনেক জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। প্রাইভেট পড়ানোর মধ্যে দিয়ে আমার জ্ঞান ভান্ডার শক্তিশালী করি।





আওয়াল বলেন, প্রতিবন্ধীদের অধিকার আদায়ে সেভ দ্যা প্লানেট অ্যান্ড ডিসেবিলিটি’র (এসপিডি) সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। এর পিএইচআরপিবিডি প্রকল্পে কাজ করি। বেতন নয়- সেখান থেকে টি.এ/ডি.এ পাই মাত্র।  লেখা-পাড়ার পাশাপাশি কয়েক বছর ধরে আওয়াল অটো-রিকশা চালিয়ে রোজগার করেন। তিনি নিজের মত করে একটি অটো রিকশা তৈরি করেছেন। কলেজের ফাঁকে ও ছুটির দিনে শহরের এ মাথা-ও মাথা ভাড়ায় যান। সারা দিনে ৩০০-৫০০টাকা আয় করেন। তা দিয়ে তাদের সংসারের চাকা ঘুরাতে সহজ হয়। আওয়াল বলেন, সহযোগিতা পেলে ব্যাটারীচালিত চায়না অটো-রিকশা কিনে চালাতে পারলে আয় বেশি করা যেতো। আওয়াল হোসেন জানান, অল্প জমি আছে বাবার। তাতেই তিনি আবাদ করেন। মাঝে মাঝে অন্যের জমিতেও কাজ করেন। তিনি জানান, সমাজ সেবা থেকে ৩-৪ মাস অন্তর মাসিক সামান্য কিছু টাকা ভাতা পান আওয়াল হোসেন। প্রতিবন্ধীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ইচ্ছাশক্তিতে লক্ষ্যে পৌঁছনো যায়। ছাড়ুন ভিক্ষাবৃত্তি। আসুন নিজের পায়ে দাঁড়াই। সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচি।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *